সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে সৌদি গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় লাশ হলেন কটিয়াদীরের ফয়সাল

79

মাইনুল হক মেনু, স্টাফ রিপোর্টার

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের ভাট্টা গ্রামের মোঃ মঞ্জু ভূইয়ার পুত্র ফয়সাল ভূইয়া (৩৩) সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরব গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় লাশ হলেন। ফয়সাল সংসারের সুখ শান্তির আশায় তিন বছর পূর্বে নবজাতক শিশুপুত্রকে রেখে পাড়ি জমান সৌদি আরবে।

কাজের অবসরে প্রায়ই মোবাইল ফোনে কথা বলেন মা-বাবা, স্ত্রী ও ভাইসহ পরিবারের সকলের সাথে। খোঁজ খবর রাখেন রেখে যাওয়া নবজাতক সন্তানের।

বার্ধক্য জনিত কারণে গত ২৪ ডিসেম্বর তার মা মারা যান। মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়েও ছুটিতে বাড়ি আসতে পারেননি ফয়সাল ।

তাই মায়ের মৃত্যুর পর থেকে প্রতিদিনই একবার ফোনে কথা বলেন বাবা, স্ত্রী ও ভাইদের সাথে। গত ১৪ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) সারাদিন কেটে গেলেও ভাইয়ের ফোন না পেয়ে সন্ধ্যায় ছোট ভাই রিগান ফোন করেন ফয়সালের মোবাইল ফোনে। সেখানে ফোন রিসিভ করেন ফয়সালের এক বন্ধু। ভাই কোথায় জিজ্ঞাসা করতেই ওপাশ থেকে খানিকক্ষণ চুপ থেকে কান্নাভেজা ভারী গলায় জানান, ফয়সাল কিছুক্ষণ আগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। ভাইয়ের মৃত্যুর এ সংবাদ শুনার পর রিগানের বুকফাটা চিৎকারে ভারী হয়ে উঠে আশপাশের বাতাস। কয়েক দিন আগে মায়ের মৃত্যু এখন আবার ভাইয়ের মৃত্যু এ যেন এক হৃদয় বিধারক ঘটনা।

রিগান ভূইয়া জানান, ফয়সাল ভূইয়া সৌদি আরবের হাপারাল বাতান এলাকায় একটি মাদ্রাসায় চাকরি করতেন। গত ১৪ জানুয়ারি ডিউটি শেষে বাসস্থানে ফেরার পথে এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।

ভাইয়ের মরদেহ দেশে আনার জন্য এখন ধরণা দিচ্ছেন কিশোরগঞ্জ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে।

এদিকে ফয়সাল ভূইয়ার রেখে যাওয়া নবজাতক রেদুয়ান ভূইয়া যার বয়স এখন সাড়ে তিন বছর। একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে স্ত্রী জুবায়দার চোখে মুখে দেখা যায় অন্ধকারের ছাপ। কি হবে ছেলের ভবিষ্যত! শেষ বারের মত স্বামীর লাশটা একবার দেখতে চান। অপেক্ষার প্রহর গুণছেন, কবে আসবে লাশ?

করগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত লস্কর পারভেন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সৌদি প্রবাসী ফয়সাল ভূইয়ার লাশ দ্রুততম সময়ে দেশে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানাই।

কিশোরগঞ্জ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক আলী আকবর বলেন, নিহতের লাশ দেশে আনার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইমেইল ও ডাকযোগে প্রেরণ করা হয়েছে।